রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

লালমনিরহাটে সাংবাদিককে লাঞ্চিত, ক্যামেরা ছিনতাই

লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥

লালমনিরহাটে কৃষকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীর কাছ ধান সংগ্রহ করার তথ্য জানতে চাইলে ক্ষুদ্ধ হয়ে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়িতে উপজেলা খাদ্য গুদাম চত্বরে গুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান ও তার লোকজন এক সাংবাদিকের ভিডিও ক্যামেরা ছিনতাই করে তাকে লাঞ্চিত করে বাইরে বের করে দেন।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে এ ঘটনায় সেখানে ছুটে যান স্থানীয় সাংবাদিক, পুলিশ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম। পরে বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস প্রদান করেন।

হামলার শিকার সাংবাদিক হলেন- মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত। তিনি লালমনিরহাট শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। শহরের কালীবাড়ড়িতে অবস্থিত লালমনিরহাট উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান ও তার লোকজন কৃষকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করছিলেন। এ খবরে সেখানে গিয়ে এর সত্যতা পাই ও শাহিনুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হন। এসময় আমার কাছে থাকা ভিডিও ক্যামেরাটি ছিনতাই করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্চিত করে গুদাম জত্বর থেকে বের করে দেন,” জানালেন জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত। “কৃষকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় এ গুদামের নিয়মিত চিত্র,” তিনি এমনটি জানিয়ে বলেন তিনি এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সাংবাদিকের কাছ থেকে ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার সত্যতা স্বীকার করে সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান তিনি খাদ্য গুদামের কোন তথ্য সাংবাদিককে দিতে বাধ্য নন। কোন কৃষকের কাছে ধান ক্রয় করছেন আর কোন ব্যবসায়ীর কাছে করছেন এ তথ্য সাংবাদিককে কেন দিবেন, প্রয়োজন হলে তিনি তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দিবেন বলে জানান খাদ্য গুদামের এই কর্মকর্তা। সাংবাদকের ক্যামেরা কেন কেড়ে নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি নীরব ভুমিকা পালন করে কোন উত্তর দেন না। লালমনরহাট সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আইয়ুব আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ঘটনার ব্যাপারে জ্ঞাত নন বলে জানান। এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতেও রাজি হননি তিনি। লালমনিরহাট জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কাজী সাইফুদ্দিন দেশের বাইরে থাকায় তার সাথে কথা সম্ভব হয়নি।

লালমরিহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোফাখখারুল ইসলাম মজনু জানান, সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনতাই করে অভিযুক্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা গুরুতর অপরাধ করেছেন। খাদ্য বিভাগ অভিযুক্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করলে লালমনিরহাটের কর্মরত সাংবাদিকরা শিঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিবেন।

লালমনিরহাট অতিরিক্ত জেলাপ প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি তদন্ত করেছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করবেন এবং পরে তা খাদ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরন করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com